সর্বশেষ সংবাদ

প্রশ্নবিদ্ধ চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতি

October 7, 2020
40-1907010815

দীর্ঘ সাত বছর আটকে থাকার পর গত নভেম্বরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির নতুন কমিটি নির্বাচিত হয়। চলচ্চিত্রের আমূল পরিবর্তন ও দেশের সিনেমা হলগুলো ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রম্নতি দিয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন খোরশেদ আলম খসরু এবং সাধারণ সম্পাদক হোন শামসুল আলম। নির্বাচিত হওয়ার পর দেখতে দেখতে এক বছর হতে চললেও সিনেমা নির্মাণের খবর নেই। ঢেলে সাজানো দূরে থাক, উল্টো গত এক বছরে বন্ধ হয়েছে ডজনখানে সিনেমা হল। পাশাপাশি এফডিসি কেন্দ্রিক আন্তঃকোন্দল, দলাদলি ও নিষিদ্ধকরণ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় প্রযোজক সমিতির মূল ভূমিকা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকই অভিযোগের সুরে বলছেন, প্রযোজক সমিতি মুখে বড় কথা বললেও কাজের কাজ কিছুই করছে না।

যদিও প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় আসার পর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি চলচ্চিত্রের আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোকে। চেষ্টা করেছি হলের মেশিন ভাড়া ও সরকারি ভ্যাট কমাতে। বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে সফলও হয়েছি। এখন সিনেমা হলের মেশিন ভাড়া অনেক কম। তাছাড়া সিনেমা হল নির্মাণ, সরকার ঘোষিত বিনোদন কেন্দ্র ও সিনেপেস্নক্স তৈরি ও শেয়ারমানির ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছি। পাশাপাশি বাণিজ্যিক ছবিতে অনুদান পাওয়ার বিষয় সরকারের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছি। সফলও হয়েছি। সে ধারাবাহিকতায় এবার সরকারি অনুদান বেশি এসেছে।’

এদিকে প্রযোজক সমিতির বিরুদ্ধের সবচেয়ে বড় অভিযোগ, তারা ক্ষমতায় আসার পর সিনেমা নির্মাণের সুখবর দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। দলাদলি ও শিল্পী সমিতির সঙ্গে ঝামেলায় জড়ানো ছাড়া চোখে পড়ার মতো তেমন কোনো কাজ করেননি। এমনকি প্রযোজক সিমিতির সভাপতির নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা টিওটি ফ্লিমসের ব্যানারেও তিন বছর নেই নতুন সিনেমা। এসব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে যায়যায়দিনকে খোরশেদ আলম বলেন, ‘আমার প্রযোজনা সংস্থা থেকে সর্বশেষ ২০১৬ সালে সিনেমা নির্মাণ করেছি। তখন দেশের সবগুলো হলই জাজ মাল্টিমিডিয়ার কবজায় ছিল। আমার সিনেমাটি তারা মুক্তি দিতে দেয়নি। সংস্কারের নামে হল থেকে মেশিন সরিয়ে ফেলেছিল। পরে অনেক কষ্টে মাত্র ৩০টি হলে মুক্তি দেই সিনেমাটি। এরপর থেকে লগ্নি করা হয়নি। এখন যেহেতু জাজের হাত থেকে দেশীয় চলচ্চিত্র অনেকটাই মুক্ত, তাই সামনে প্রযোজনা করব। সত্যি বলতে দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনকে ঢেলে সাজাতে গিয়ে নিজের প্রযোজনা সংস্থায় নজর দেওয়া হয়নি।’

পরিসংখ্যান বলছে, দেশের সিনেমা হলের সংখ্যা দিনকে দিন কমছেই। কয়েক বছর আগেও সারাদেশে প্রায় সাড়ে তিনশ সিনেমা হল ছিল। বর্তমানে ১১০টি সিনেমা হল রয়েছে বলে জানায় প্রযোজক সমিতি। এত অল্পসংখ্যক হলে সিনেমা মুক্তি দিয়ে লগ্নির টাকা উঠে না আসায় প্রযোজকরা বিনিয়োগ করতে চান না। তাই বছর জুড়েই চেয়ে থাকেন অনুদানের চলচ্চিত্রের দিকে। সম্প্রতি করোনাভাইরাসের দোহাই দিয়ে এই দাবি আরও চাঙ্গা হয়েছে। অপরদিকে দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্পকে পুনরুদ্ধারের জন্য সরকার সম্প্রতি ১ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে দ্রম্নতই এই টাকা সংশ্লিষ্টদের হাতে আসবে। ব্যয় হবে সিনেমা হল ও এফসিডির জন্য। যদিও চলচ্চিত্রের ১৮ সংগঠনের আন্তঃকোন্দলের কারণে এর সুফল পাওয়া নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের দাবি মাদার সংগঠন প্রযোজক পরিবেশক সমিতি ও চলচ্চিত্র শিল্পীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সিনেমার জন্য কাজ করতে হবে। নাহলে সিনেমা কখনো ঘুরে দাঁড়াবে না। এখন দেখার বিষয় প্রযোজক সমিতি তাদের নামের সুবিচার কতটুকু করতে পারে।

যায়যায়দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


দ্য ফেস্টিভাল নিউজ

দ্য ফেস্টিভাল নিউজ, উই আওয়ার্স সিনেমার একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। নান্দনিক শিল্পকর্মের সংবাদ, সমালোচনা ও সাক্ষাৎকার পরিবেশনা করে থাকে।


যোগাযোগ : weehourscinemabd@gmail.com

ফোন: +8801717434968